Biography

হেমচন্দ্র সেন


হেমচন্দ্র সেন, সুশীলচন্দ্র সেন, গিরিসচন্দ্র সেন, ধীরেন্দ্র চন্দ্রসেন, হিরণ চন্দ্র সেন ও সুরুজ চন্দ্র সেন এই ছয় ভাই এবং দুই বোন আশালতা সেন ও হেমলতা সেন তত্‍কালীন ভারতের সন্ত্রাসবাসী আন্দোলনে বিপ্লবী কমর্ী হিসেবে সমগ্র ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গণে প্রসিদ্ধি লাভ করেন৷ বিপ্লবী ভাইবোনের নেতা হেমচন্দ্র সেন ১৮৬৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন৷ পিতা কৈলাশচন্দ্র সেন আসামের চিফ কমিশনার অফিসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন৷ তাঁদের পূর্বপুরুষ বিক্রমপুর থেকে এসে বানিয়াচঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন৷ হেমচন্দ্রসেনের বড়ভাই গিরিশচন্দ্রসেন ব্রিটিশ শাসনকালে সুনামগঞ্জের মহকুমা প্রশাসক ছিলেন৷
হেমচন্দ্র সেন কলকাতা আলীপুর বোমার মামলার অন্যতম আসামী হয়ে দীর্ঘকাল কারাভোগ করেন৷ তাঁর ছোট বোন আশালতা সেন কারাগারে কাঁঠালের ভেতর বোমা প্রেরণ করে গ্রেফতার হন৷ তাঁর ভাই সুশীল সেনকে জনৈক ব্রিটিশ সার্জেন্টের হাত থেকে বন্দুক কেড়ে নেওয়ার অপরাধে বেত্রদণ্ডের আঘাত সহ্য করতে হয়৷ তখন তাঁর বয়স ছিল ১৫ বছর৷
১৯১১ সালে কলকাতা থেকে দিল্লীতে রাজধানী স্থানান্তরিত করার সময় তদানীন্তন বড় লাটের রাজকীয় মিছিলের উপর বোমা ফেলার নেতৃত্ব দানকারী ছিলেন হেমচন্দ্র সেন ও তার বিপ্লবী সহকমর্ীগণ৷ ঐ বছরই সুরাটে কংগ্রেসের সভা পণ্ড করে দিয়েছিলেন হেমচন্দ্র সেন ও তাঁর সঙ্গী ৫০ জন সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবী কমর্ী৷
হেমচন্দ্র সেন বানিয়াচং ফিরে এসেছিলেন ১৯২৩ সালের দিকে৷ বানিয়াচং থাকাকালীন সময়ে তাঁর সেনপাড়ার বাড়ি ছিল অস্ত্র ও বোমা তৈরির ক্ষুদ্র কারখানা৷
বানিয়াচঙ্গের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে, জমিদারি উচ্ছেদ আন্দোলন, প্রজা সাধারণের উপর জমিদারি অত্যাচার নিপীড়নের প্রতিবাদে সোচ্চার কন্ঠ হিসেবে তিনি সকল মহলে সুপরিচিত হন৷ আশি বছর বয়সে নিজ বাড়িতে ১৯৪৫ সালে তিনি দেহত্যাগ করেন৷