Biography

অধ্যাপক পদ্মনাথ ভট্টাচার্য

অধ্যাপক পদ্মনাথ ভট্টাচার্য বিদ্যাভূষণ পাড়ায় ১৮৬৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন৷ ১৮৮০ সালে তিনি এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সমগ্র আসামের পরীক্ষাথর্ীদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন৷ ১৮৯০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজি, সংস্কৃতি ও দর্শন শাস্ত্রে অনার্সসহ তিনি বি.এ. পাস করেন৷ অতঃপর শ্বাশত সমাজের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাঁকে স্বরস্বতী ও বিদ্যাবিনোদ উপাধি দেওয়া হয়৷ ১৮৯২ সালে তিনি ইংরেজিতে এম এ পাশ করার পর সিলেট মুরারীচাঁদ কলেজে ইংরেজি, সংস্কৃত, লজিক ও ইতিহাসের অধ্যাপক নিযুক্ত হন এবং লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন৷ শ্রীহট্ট সাহিত্য পরিষদ ১৯৩১ সালে ভট্টকবিতা সংগ্রহে ব্রতী হলে পদ্মনাথ ভট্টাচার্য তাঁর সংগৃহীত ৩৭টি ভট্টকাব্য এবং ভট্টকবিদের জীবনী শ্রীহট্ট সাহিত্য পরিষদে জমা দেন৷ ১৯৮৯ সালে "বঙ্গীয় শিক্ষা পরিষদ" যতীন্দ্র মোহন সংগ্রহশালা কলকাতা থেকে শ্রীহট্টের 'ভট্ট সংগীত' নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়৷ এই গ্রন্থের সতের জন ভট্ট কবির আটত্রিশটি কবিতার ৩০টি কবিতাই এই ভট্ট কবিগণ কতর্ৃক রচিত৷
পদ্মনাথ ভট্টাচার্য মুরারীচাঁদ কলেজে কিছু দিন অধ্যাপনা করার পর আসাম সেক্রেটারিয়েটে চলে যান এবং সেখান থেকে ১৮৯৭ সালে তাঁকে সুরমা উপত্যকার ডিপুটি ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়৷ ১৯০১ সালে তাঁকে সরকারি সেন্সার সুপার পদে নিযুক্ত করা হয়৷ সেখান থেকে তিনি গৌহাটি কলেজের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন৷ সরকার বাহাদুর তাঁর জ্ঞানের পরিচয়ে তাঁকে মহামহোপধ্যায় উপাধি দানে সম্মানিত করেন৷
১৯১১ সালে তিনি 'বঙ্গীয় অনুসন্ধান সমিতি' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন৷ এই সমিতি এখন সরকারি সাহায্যপুষ্ঠ হয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে৷ আমাদের ভারত বর্ষের ইতিহাস সম্বন্ধে এই সমিতি বহু অনুদঘাটিত তথ্য আবিস্কার করছে৷ বাঙ্গালী মুসলমান সমাজকে কেউ কটাক্ষ করলে তিনি প্রতিবাদে ফেটে পড়তেন৷ প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের লিখা 'বাঙ্গালী মস্তিস্কের অপব্যবহার' প্রবন্ধে সনাতন ধর্ম ও সমাজের উপর আক্রমণ করা হলে পদ্মনাথ ভট্টচার্য 'ভ্রান্তি নিরাশ' প্রবন্ধ গ্রন্থটি প্রকাশ করে এর সমুচিত জবাব দেন৷ অচু্যতচরণ চৌধুরীর সিলেটের ইতিবৃত্ত গ্রন্থ প্রকাশে তিনি ১৯১০ সালে পাঁচ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিলেন৷
১৯৪৫ সালে এই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব নিজ বাড়িতে মৃতু্যবরণ করেন৷