Biography

সুশীল কুমার সেন

সেনপাড়া মহল্লায় ১৮৯১ সালে সুশীল কুমার সেন জন্মগ্রহণ করেন৷ তাঁর পিতা কৈলাশ চন্দ্র সেন ছিলেন সাবরেজিষ্টার৷ ১৯০৬ সালের আগস্ট মাসে সুরমা উপত্যকার রাষ্ট্রীয় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে শ্রীহট্টের বিপিন পালের জ্বালাময়ী বক্তৃতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সুশীল কুমার ও তাঁর ভ্রাতা বীরেন্দ্র কুমার কলকাতায় পাড়ি জমান৷ এ সময় কলকাতা প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি স্বদেশী মোকদ্দমা শুরু হয়৷ বিচারের দিনে পুলিশ জনতার স্বতস্ফূর্ত শ্লোগান বন্ধ করার জন্য লাঠিচার্জ করে৷ ঐ সময় জনতার মধ্য থেকে ১৫/১৬ বছরের বালক সুশীল কুমার সেন পুলিশের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং পাল্টা পুলিশকে আঘাত করেন৷ এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সুশীল কুমারকে আটক করে৷ জনতার সামনে উপস্থিত বিচারে তাকে ১৫টি বেত্রাঘাতের আদেশ হলো৷ বালক সুশীল কুমার নীরবে বেত্রাঘাত সহ্য করলেন৷ কিন্তু তার এই নির্যাতন আসমুদ্র হিমাচল কম্পিত হয়ে উঠল৷ স্বয়ং অরবিন্দ তাঁকে দেখতে এলেন৷ রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ প্রকাশ্য জনসভায় সুশীল কুমারকে অভিনন্দিত করলেন৷ ভারতের সর্বত্র সভা সমিতি হতে লাগল৷ কালীপ্রসন্ন কাব্যবিশারদ এই ঘটনা নিয়ে গান রচনা করলেন
আমায় বেত মেরে কি মা ভুলাবে, আমি কি মায়ের সেই ছেলে ---
শ্রীহট্ট প্রতিভা গ্রন্থে লিখা হয়েছে 'সুশীল কুমারের বেত্রাঘাত ভারতের মুক্তি সংগ্রামের প্রাথমিক যুগের এক বিশেষ ঘটনা৷'

সুশীল কুমারের জৈষ্ঠ ভ্রাতা শ্রীশ কুমার সেন সুনামধন্য মাজিস্ট্রেট ছিলেন৷ সর্ব কনিষ্ঠ ভ্রাতা সরুজ কুমার সেন আনন্দ বাজার পত্রিকার সহসম্পাদক হিসাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন৷ অন্য আর এক ভাই হেম চন্দ্র সেন সম্পর্কে অন্যত্র আলোচনা করা হয়েছে৷ তাঁর একমাত্র বোন আশালতা সেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে কাঁঠালের ভিতর বোমা বহন করে আলোচিত হন৷ ক্রনিকেল পত্রিকার সম্পাদক প্রখ্যাত সাংবাদিক শশীন্দ্র চন্দ্র সিংহ ছিলেন আশালতার সুযোগ্য স্বামী৷