Biography

ভূপর্যটক রামনাথ বিশ্বাস

রামনাথ বিশ্বাস ১৮৯৪ সালে বানিয়াচং বিদ্যাভূষণ পড়ায় জন্মগ্রহণ করেন৷ তাঁর পিতার নাম ছিল বিরজা নাথ বিশ্বাস৷ তিনি এল আর হাই স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখা পড়া করেন৷ আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকায় পিতৃ বিয়োগ হওয়ার পর তিনি হবিগঞ্জ জাতীয় ভেণ্ডার সমিতির অধীনে ১৯২১ সালে ম্যানেজার পদে চাকরি লাভ করেন৷
বাল্যকাল থেকে খেলাধুলায় আসক্ত রামনাথ বিশ্বাস বাইসাইকেল চালনায় বিশেষ পারদর্শিতা লাভ করেন৷ তাঁর অন্তুরে জন্ম নেয় দেশ ভ্রমণের স্পৃহা ৷ কয়েক বছর হবিগঞ্জ ভেণ্ডার সমিতিতে চাকরি করে একদিন তিনি বাইসাইকেলে দেশ ভ্রমণে বের হন৷ বেশ কিছু দিন ভারতে থেকে বহু তীর্থ স্থান দেখে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন৷ এক পর্যায়ে তিনি সামান্য অর্থ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ মহাদেশ ভ্রমণে অগ্রসর হন৷ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও ইউরোপ ভ্রমণ করে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন এবং এক বত্‍সর বিশ্রাম গ্রহণ করেন৷
দ্বিতীয়বার তিনি পারস্য ভ্রমণ করে তাঁর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, "একদিন এক চায়ের দোকানে চা পানের জন্য বসি তখন চা ওয়ালা ফুটন্ত জলের কেতলি চা, দুধ, চিনি টেবিলে রাখে৷ সেই দেশে নিয়মও এই রকম৷ আমি নিজ হাতে চা তৈরি শুরু করি৷ চায়ের পেয়ালাতে ফুটন্ত জল ঢেলে এক চামচ চিনি দেওয়ার পর আরেক চামচ দিতেই চা ওয়ালা বলে উঠল 'ধাওর নেহী সাহেব এক ছিপ কা যেয়াদা লেগা হামারা সুলতান কা মানা হায়,' আমি তার কথা রক্ষা করে ভাবতে লাগলাম প্রথমবার ভ্রমণে দেখলাম একটা নোংরা দেশ, বাড়ি ঘর নোংরা৷ এবার দেখলাম এর বিপরীত৷ সেই স্থান প্রসাদে পরিপূর্ণ, আচার আচরণ ভিন্ন৷ ইহার কারণ রাষ্ট্রের মিতব্যয়িতা৷'
রামনাথ বিশ্বাস চীন আফ্রিকা কোরিয়া জাপান, জার্মান, আমেরিকা ফ্রান্সসহ এশিয়ার প্রায় সব কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন এবং প্রতিটি দেশের ভ্রমণ কাহিনী পুস্তক আকারে লিপিবদ্ধ করেন৷ রামনাথ বিশ্বাসের মত এত বিপুল সংখ্যক ভ্রমণ কাহিনী বাংলা সাহিত্যে কমই লিখা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন৷ তাঁর ভ্রমণ কাহিনীগুলো পুস্তক আকারে কলকাতা স্বরস্বতী লাইব্রেরীর সৌজন্যে প্রকাশিত হয়েছিল৷ তিনি ৩৫টি ভ্রমণ কাহিনী গ্রন্থ লিখেছেন৷
১৯৫০ সালে ভ্রমণ শেষ করে তিনি বানিয়াচং আসার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেন৷ যখন শুনলেন ম্যালেরিয়ায় বানিয়াচং হাজার হাজার লোক মৃতু্যবরণ করছে তখন থেকেই তিনি কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন৷ ১৯৫৭ সালে সেখানেই তিনি মৃতু্যবরণ করেন৷