Biography

শেখ গোলাপ আলী

গোলাপ আলী ১৮৯৬ সালে যাত্রাপাশা মহল্লায় পারু শেখের ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন৷ পিতা ছিলেন ধর্মানুরাগী ব্যক্তি৷ তিনি একটি মসজিদ স্থাপন করেছিলেন যা আজও পারু শেখের মসজিদ বলে খ্যাত৷
শেখ গোলাপ আলী ছিলেন একজন সমাজ সেবক৷ তিনি বানিয়াচং আলিয়া মাদ্রাসা স্থাপনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন৷ তিনি ছিলেন নির্বাচিত সরপঞ্চ৷ সামাজিক বিচার-আচারে তার অনেক ভূমিকা থাকতো৷ পায়ে হেঁটে অনেক দূর পর্যন্ত গিয়ে বিচার কার্যে গিয়েছেন৷ বানিয়াচঙ্গের ম্যালেরিয়ার সময় তিনি অনেক রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে সেবা করেছেন৷ গরিবের জন্য রিলিফ বরাদ্দ বাড়াতে তিনি সবসময় সচেষ্ট ছিলেন৷ গ্যানিংগঞ্জ বাজার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অনেক অবদান ছিল৷ বানিয়াচং আলিয়া মাদ্রাসা স্থাপনের সময় তিনি নিজের টুপি দান করে তা নিলামে ডেকে এনে ঐ টাকা দিয়ে মাদ্রাসার ভিত্তি স্থাপন করেন৷
তাঁর চার ছেলে৷ বড় ছেলে আব্দুস সহীদ খান বিএ পাশ করে পিতার পথ অনুসরণ করে বিচার কার্যে নিয়োজিত আছেন৷ তিনি বানিয়াচং গ্যানিংগঞ্জ বাজারের সেক্রেটারি ও পশ্চিম ঈদগাহ পরিচালনায় নিয়োজিত আছেন৷ দ্বিতীয় পুত্র আব্দুল হাই এলআর হাই স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক পদে শিক্ষকতা করেন৷ ১৯৬৭ সালে তিনি মৃতু্যবরণ করেন৷ তিনি বানিয়াচং ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক ছিলেন৷ একজন দক্ষ সত্‍ সাহসী ফুটবল রেফারি হিসেবে মরহুম আব্দুল হাই ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়৷ তৃতীয় ছেলে ডাক্তার মো. মুকিত খান স্কটল্যান্ড থেকে এফ,আরসি এস করে বর্তমানে লন্ডন হাসপাতালের একজন সার্জন হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন৷ চতুর্থ ছেলে এম এ মতিন খান, ম্যানেজমেন্টে উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বৃটেনে অবস্থান করছেন৷ তিনি বানিয়াচং সুফিয়া মতিন মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা৷ এছাড়াও বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে অনেক স্কুল কলেজে তিনি অনুদান প্রদান করছেন৷ সমাজ সেবামূলক কাজে অবদান রাখার জন্য বৃটেনের রাণী তাঁকে ঙইঊ উপাধি প্রদান করেছেন৷ স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তিনি স্কটল্যান্ডে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন৷