সাগর দীঘি


Komol Rani Dighi or shagor Dighi: An per myths revealed, king Suhid Narayan dug the dighi for the welfare of the people. After deep excavation, waters from watertable did not come. At one night, the king had a dream that advised him to sacrifice his wife Kamola Rani.The very nextday morning the king discussed the matter with his wife and his wife agreed to sacrifice her life.That is why it named after Kamola Rani dighi.





মধ্যযুগের জমিদারদের মধ্যে দীঘি খননের প্রবণতা দেখা যায়। সেসব দীঘি খননের পশ্চাতে জনগণের তৃষ্ণা নিবারণের কথা বলা হলেও, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে নিজেদের প্রাসাদতূল্য বাড়ীর শোভাবর্ধনের আকাঙ্খাই বেশী কাজ করত। কোন কোন বাড়ীতে দীঘির পানি ব্যবহার করা দূরের কথা, দীঘির পাড়ে যাওয়াও অসম্ভব ছিল। ফলে দীঘি সমূহের খননের পশ্চাতে জনগণের দোহাই পাড়া ও তা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করা প্রতারণারই নামান্তর। সাগরদীঘি নামটি খুবই জনপ্রিয়। জমিদারেরা বড় দীঘি খনন করে নামের জন্য ঐ দীঘিকে ’সাগর দীঘি, বলে প্রচার করতে আগ্রহী হতেন। ফলে বাংলাদেশে অনেক জায়গায় একই নামে অনেকগুলো দেখতে পাওয়া যায। আবার এ সব দীঘিকে ঘিরে একই ধরণের উপকথার প্রচলনও দেখতে পাওয়া যায়। উপকথায় প্রায়শ উল্লেখ হয যে, দীঘি খননের পর দীঘিতে পানি না উঠায়, রাজকন্যা নয়ত রাজরাণীকে আত্মত্যাগের জন্য দীঘিতে নিমজ্জিত হতে হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাদের বিদেহী আত্মা সে দীঘিতে নানা রূপে নানা ভাবে রাত্রি নিশিথে সঞ্চরণ করতে দেখা গেছে। অনেক লোক হলফ করেও সেসব অলৌকিক দৃশ্য নিজ চোখে দেখেছে বলে ¯^v¶¨ দিতে কখনো কুন্ঠিত হয় না। রাণী বা রাজকন্যার নামও সাধারণত কমলারাণী বা কমলাবতী নামে খ্যাত হয়ে থাকেন। সম্ভবত কোন একটি দীঘিকে ঘিরে এ কাহিনীর প্রথম সুত্রপাত হয় এবং লোকসমাজে কাহিনীর প্রসার ঘটে। পরে এটা সকল বড় দীঘির ক্ষেত্রে জড়িয়ে যায়। বাংলাদেশের যেখানেই বড় সড় দীঘি আছে, সেখানেই এসব উপকথার প্রচলন দেখা যায। বানিয়াচঙ্গের সাগরদীঘি নিয়েও তেমনি একটি করুণ কাহিনী প্রচলিত আছে। কথিত আছে বানিয়াচঙ্গের দরিদ্র জনগণ দীর্ঘদিন যাবত পানির কষ্টে দিন যাপন করছিল। জনগণের এই কষ্টের কথা জানতে পেরে রাণী অত্যন্ত ব্যথিত হন। রাণী রাজাকে একদিন একান্তে পেয়ে খুব সোহাগ আদর করতে থাকেন। এক মাহেন্দ্রক্ষণে রাণী জনগণের দুঃখকষ্টের কথা বলে রাজাকে তার নামে একটি দীঘি খননের মাধ্যমে তার প্রেমের পরিচয় দিতে অনুরোধ করেন। রাজা ঐ সময় রাণীর প্রেমে বিভোর। তিনি না করতে পারলেন না। পরদিনই তিনি উজীর নাজির ডেকে দীঘি খননের বিষয় প্রকাশ করলেন এবং অবিলম্বে ব্যবস্থার আদেশ দিলেন। সেমতে পারিষদবর্গ সবাই দীঘি খননের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। সকলের সমবেত প্রচেষ্টায় একসময় দীঘির খনন কাজ সমাপ্ত হল। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল একস্থানে। দীঘিতে পানি উঠে না। কেউ ভেবে পায় না এর কারণ। রাজা উদ্বিগ্ন, রাণীও চিন্তিত। দীঘিতে পানি না উঠায় রাজা ও রাণী উভয়ে মানসিক ভাবে একেবারেই ভেঙ্গে পড়েন। একরাতে রাজা তার শিশু সন্তান ও সুন্দরী রাণী কমলবতীকে নিয়ে ঘুমোলে এক `:¯^cœ দেখে জেগে উঠেন। `:¯^cœ দেখে রাজার দুচোখ বেয়ে পানি গড়াতে থাকে। এ সময় রাণীরও ঘুম ভেঙ্গে যায়। রাণীর পীড়াপীড়িতে রাজা ¯^‡cœi কথা প্রকাশ করেন। দীঘি রাণীকে চায়। রাণী ব্যতীত দীঘিতে পানি উঠবে না। পর পর তিনদিন একই ¯^cœ| বাজা পূজো অর্চনা করেন। শিব, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, দুর্গা, কালীর কাছে কাকুতি মিনতি করেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়না। দীঘি রাণী ছাড়া আর কিছুই চায় না। প্রায় প্রতিদিন একই ¯^cœ| মনোকষ্টে রাজার শরীর ভেঙ্গে যায়, রাজার অবস্থা দেখে রাণী অশ্রুবিসর্জন করেন, নাওযা খাওয় সব বন্ধ। কোলের বাচ্ছা কেবলি কাদে আর গড়াগড়ি যায়। রাণী ভাবেন তারই অনুরোধে রাজা এতবড় কীর্তির বাস্তবায়ন করেছেন। এখন পানি না উঠলে সব মিথ্যা হয়ে যাবে। ভেবে ভেবে অবশেষে রাণী তার প্রাণ প্রিয় রাজার কীর্তিকে সার্থক ও প্রতিষ্ঠিত করতে আত্মবিসর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। রাজা রাজি হন না। প্রতি দিন মহিষ পাঠা বলিদেন আর ঠাকুরকে ডাকেন। কিন্তু রাণী তার সিদ্ধান্তে অটল। তিনি আত্মবিসর্জন দিবেনই। রাজা রাণীর কাছ থেকে সময় নেন। কিন্তু একবার, দুবার, তিনবার সময় নিয়েও রাজা দীঘিতে পানি তোলতে বিফল হন। অবশেষে ভগ্নহৃদয় রাজা অশ্রুপ্লাতকন্ঠে রানীর ইচ্ছার প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করেন। জ্যেতিষীরা বসে গণনা করে দিনক্ষণ ঠিক করলেন। যে কোন শনিবারে ঠিক দ্বিপ্রহরে রাণীকে নববধূ সাজে দীঘিতে নামতে হবে। সেমতে পরবর্তী শনিবারে ঠিক দ্বিপ্রহরে বাদ্যবাজনার শোরগোলের মধ্য দিয়ে চন্দন পুষ্পিতা i³v¤^iembv রানী ফলফুল দিয়ে সজ্জিত হয়ে বহ্নি প্রজ্বলিত বরণডালা হাতে AvRvbyjw¤^Z ক্রোধিপ্ত নাগিনীর মত বন্ধনহীন ভ্রমর কৃষ্ণ কেশরাশি নিতম্বে দোলায়ে সকলকে শিহরিত করে গজেন্দ্র গমনে ধীর পায়ে দীঘির পানে অগ্রসর হলেন। রাণী দীঘিতে নামার সঙ্গে সঙ্গে পানি উঠতে লাগলো। রাণী যত এগিয়ে যান, পানিও ততই বৃদ্ধি পায়। এক সময় ভ্রমর কৃষ্ণ কেশরাশি হারিয়ে গেলো অথৈ পানির নীচে। আর দীঘির পাড়ে শোকে মুহ্যমান রাজার বিলাপ হারিয়ে গেলো চার পাড়ে জমায়েত লোকজনের আকাশ প্রকম্পিত জয়ধ্বনির মধ্যে। পত্নী শোকে মুহ্যমান রাজা দীঘির পাড়ে মূর্তিবৎ বসে থাকেন। উজিন নাজির কোতোয়াল কারো কথায় কাজ হয়না। এক সময় রাজা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সবাই তাকে ধরাধরি করে নিয়ে খাটে শুইয়ে দেয়। গভীর রাতে রাজার জ্ঞান ফেরে। সব মনে পড়তেই রাজা ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাদতে থাকেন। তার অন্তর বেদনায় নীল হয়ে আছে। এমন সময় দরোজায় ঠোকা পড়ল। কে? আমি কমলাবতী। তোমার কমলাবতী। চমকে উঠলেন রাজা। দুয়ার খোলতে দেখা দিল সেই লাল পাড় শাড়ী, দেহ চন্দন চর্চিত সুবাসিত, ধূপমাতোয়ারা এলোকিত কেশপাশ। রাজা দৌড়ে জড়িয়ে ধরতে গেলেন রাণীকে। রাণী দশ হাত দূরে ছিটকে পড়লেন। বললেন, আমি প্রতি রাতে আসবো। বাচ্ছাকে দূধ খাওয়াবো। তারপর চলে যাব। আমাকে ছুয়ো না, ছুলে আর আসতে পারবো না। তারপর থেকে সবাই যখন গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন, যখন রাত্রি গভীর তখন রানী আসেন, বাচ্ছাকে দুধ খাওয়ান এবং ভোর হওয়ার আগেই দীঘির নীলাভ শীতল জলে অদৃশ্য হয়ে যান। এ রকম করে ভালই দিন যাচ্ছিল। কিন্তু রাজার সয় না। রাজা রাণীর স্পর্শের জন্য অধীর হয়ে উঠেন। ভূলে যান রাণীর সাবধান বাণী। রাজা সিদ্ধান্ত নেন আর যেতে দেবেন না, রাণীকে ধরে রাখবেন। একদিন রাণী ফিরে যাবেন, রাজা পথরোধ করে দাড়ালেন। দোহাই আমাকে ছোয়ো না। রাণী মিনতি করেন। কিন্তু কে কার কথা শোনে। রাণীর হাত ধরে ফেললেন। হাত ধরতেই রাজার হাত কেপে উঠল। রাণীর হাত শীতল, মাছের মত পিচ্ছিল। রাজা রাণীকে আটকাতে পারলেন না। রাণী সেই যে পাতালে গেলেন, আর এলেন না। লোকমুখে এখনো শুনা যায়, অমাবশ্যা কিংবা পূর্ণিমার রাত্রে সোনার নৌকায সোনার বৈঠা হাতে সোনার মাঝি মাঝদীঘিতে ভ্রমন করে। আর নৌকায় সোনার বসন সোনার বরণ রাণী তার ভ্রমর কৃষ্ণ এলোকেশ ছড়িয়ে বসে থাকেন, একা, আর মাঝে মাঝে এদিক ওদিক তাকিয়ে কাকে যেন খোজে ফেরেন। আয়তনের বিশালত্বের দরুণ দীঘিটি সাগর দীঘি নামেই প্রচলিত। তবে রাণী কমলাবতীর নামানুসারে এ দীঘিকে মানুষ কমলাবতী বা কমলারাণীর দীঘি বলেও ডাকে। ১৯৪২ ইং সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযানে পল্লীকবি জসীম উদ্দিন বানিয়াচঙ্গে এসেছিলেন। দীঘির সৌন্দর্য দেখে খুবই মুগ্ধ হয়ে ’কমলারাণীর দীঘি’ নামে একটি কবিতা বানিয়াচঙ্গে বসেই লিখে সবাইকে শুনিয়েছিলেন। ( বানিয়াচঙ্গের প্রখ্যাত বাম রাজনীতিক, সাংবাদিক এবং এরশাদ সরকারের মন্ত্রী জনাব সিরাজুল হোসেন খান ’বিশ্বের কৃহত্তম গ্রাম নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে তার সামনেই জসীম উদ্দিন কবিতাটি রচনা করেন।) নেত্রকোনা সহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে কমলারাণীর সাগরদীঘি নামে পালাগীতির প্রচলন অদ্যাবধি আছে। তবে কাহিনীর বর্ণণা বানিয়াচঙ্গের সাগরদীঘির অনুরূপ। সমপ্রতী ময়মনসিংহ অঞ্চলের পালাকার ইসলাম উদ্দীন ”কমলারাণীর দীঘি” কেচ্ছা পালাটি ভারতের জাতীয় নাট্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিল্লীর এনএসডি, অষ্ট্রেলিয়ার সিডনী ও বিলেতের রাজধানী লন্ডনে পরিবেশন করে অত্যন্ত খ্যাতী অর্জন করেছেন। (পালাকারের নাম ইসলাম উদ্দীন - সাইমন জাকারিয়া - প্রথম আলো - অন্যআলো ১৫ ‡m‡Þ¤^i ২০০৬) সাগরদীঘির বর্ণনা ময়মনসিংহ গীতিকার ’দেওয়ানা মদিনা’ কাহিনীতেও আছে। যাহোক সাগরদীঘি বানিয়াচঙ্গের একটি বড়মাপের ঐতিহ্য।



সি.এস. জরীপ মোতাবেক সাগরদীঘি বানিয়াচঙ্গ উপজেলার জে.এল. নং ১০৪ এর সাগরদীঘি মৌজার ১নং খতিয়ানের ৪২১ নং দাগে অবস্থিত। সাগরদীঘির মোট আয়তন ৬৬.৯২ একর। বানিয়াচঙ্গে ২৮ শতকে এক বিঘা ধরা হয়। সে হিসেবে দীঘির আয়তন স্থানীয় হিসাবে ১৩৯ বিঘা বা ২০ হাল (১২ বিঘায় ১ হাল) জমি। কালের পরিক্রমায় সাগরদীঘিটি একসময় মজে গিয়ে হতশ্রীরূপ ধারণ করে। সমস্ত দীঘি ছেয়ে যায় কচুরী পানায়। জোকের জন্য কেউ পানিতে পা নামতেও সাহস পেত না। বর্ষাকালে দীঘির মধ্য দিয়ে নৌকাচালনাও অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। হেমন্তে দীঘির অধিকাংশ জায়গা শুকিয়ে যেত। মধ্যস্থলে সামান্য জায়গায় পানি থাকত। তাতে কত কিচ্ছা কাহিনী। সবাই বলত, যে জায়গায় কমলাবতী সম্পূর্ণভাবে জলে অন্তর্হিত হন, সেখানটা কোনদিনই শুকায় না। যাহোক এসব কিচ্ছা কাহিনীকে চাপা দিয়ে, কয়েকশত বৎসরের অবহেলার শিকার সাগরদীঘির নবরূপ দিতে এগিয়ে আসেন, সাগরদীঘির তীরবর্তী বাসিন্দা মরহুম সিরাজুল হোসেন খান। সিরাজুল হোসেন খান এক সময় হুসেন মুহম্মদ এরশাদের সরকারে মন্ত্রিসভায ছিলেন। তিনি ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে সাগরদীঘি পুনঃখননের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। দীঘি পুনঃখনন বা সংস্কারের জন্য সরকার থেকে প্রায ৬৫০০ টন গম বরাদ্ধ করা হয। প্রতিটন গমের স্থানীয় বাজার মূল্য ৮০০০ টাকা হিসাবে বরাদ্ধকৃত গমের প্রকৃত স্থানীয় মূল্য ৫,২০,০০,০০০/ টাকা। টাকার ভিতিতে ঐ সময়ে দিনপ্রতি ১০০ টাকা মজুরী হিসাবে এ টাকা একদিনে ৫,২০,০০০ মজুর বা এক মাসে ১৭৩৩৩ মজাুর বা দুই মাসে ৮৬৬৬ মজুর এবং চার মাসে ৪৩৩৩ মজুর এর স্থানীয় শ্রমমূল্য। গমের সরকারী মুল্য অনেক বেশী। তবে বানিয়াচঙ্গে (এবং সার বাংলাদেশেও) গম বা চাল দ্বারা কোন মাটির কাজ করালে, কাগজ পত্রে কাজের বিনিময়ে খাদ্যের কথা লেখা থাকলেও প্রকৃত পক্ষে নগদ অর্থদ্বারাই মাটির কাজ সম্পাদিত হয। এ গম দ্বারা কাগজ-পত্রে প্রায় ৭৮,৩১,০০০ ঘনফুট মাটি কাটা হয়। এখন সাগরদীঘির আয়তন ৬৬.৯২ একর সমান ২৯,৫১,১৭২ বর্গফুট। ফলে দেখা যায প্রায় সোয়া পাচ কোটি টাকা ব্যয়ে চার মাসে ৪৩৩৩ মজুরের একটানা শ্রমের বিনিময়ে তিন ফুটেরও কম গভীর করে দীঘিটি পুনঃখনন করা হয়। এখন বিবেচনার বিষয় হল, এতবড় দীঘি কি ভাবে অতীতে খনন করা হয়। সাগরদীঘির খননকাল যদি চতুর্দশ শতাব্দীও মনে করা যায, তাহলে ঐ সময় বানিয়াচঙ্গের লোক সংখ্যা ৭/৮ হাজারের বেশী হবে বলে মনে হয় না। বিশেষত ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে বানিয়াচঙ্গের লোকসংখ্যা ছিল মাত্র ২৭০০০। প্রথমাবস্থায় দীঘি খনন করতে গেলে প্রায় ৯ ফুট গভীর করতে হয়। সাধারণতঃ ভাটি অঞ্চলে মাঘ, ফাল্গুন, চৈত্র মাসে খনন কাজ করা হয়। পৌষমাসেও শেষদিকে খনন করা যায়। সেক্ষেত্রে যদি চারমাস একটানা কাজ করার বিষয় অনুমান করা যায, সেক্ষেত্রেও সাগরদীঘি খনন করতে আনুমানিক ১৫০০০ লোকের প্রয়োজন ছিল। তাই অনেকে অনুমান করেন যে সাগরদীঘি পূর্বে একটি ভরাট নদী অথবা পটিয়া বিল নামে যে জনশ্রুতি আছে, সেই বিলই হবে। তবে বিল হলেও ¯^xKvi করতেই হবে যে তা খনন করে দীঘির রূপ দেয়া হয়েছিল। পুনঃখনন করার পর সাগরদীঘি বানিয়াচঙ্গের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দীঘি এক মনোহর রূপ নিয়েছে। কি গ্রীষ্ম, কি বর্ষায় দীঘির অথৈ পানির ছোট বড় ঢেউয়ের মধ্যে মানুষ আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। ছুটির দিনে দূর দূরান্ত থেকে বহুলোক সপরিবারে দীঘি দর্শনে আগমণ করেন। সাগরদীঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন পাড়ই দীঘি অবলোকনের জন্য আদর্শ স্থান হয়ে দাড়িয়েছে। তবে দীঘির মালিকানা নিয়ে চারপাড়ের মানুষের সাথে সরকারের মামলা মোকদ্দমার উদ্ভব হওয়ায়, সাগরদীঘিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের বিকাশ থমকে গেছে।